মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০২২

জ্ঞানীরা-ই উপদেশ গ্রহন করে…


 জ্ঞানীরা-ই উপদেশ গ্রহন করে…


    মহাজগতের অদৃশ্য বস্তু নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। সেই আদিমকাল থেকেই চলে আসছে অদৃশ্যকে দেখার প্রতিযোগিতা। কোনো এক গবেষণা পত্রে পড়েছিলাম মানুষ এই অত্যাধুনিক যুগে এসেও এতো এতো ক্ষমতাশীল যন্ত্রপাতি দিয়ে মহাবিশ্বের যতটুকু জানতে পেরেছে, দৃশ্যমান বস্তু দেখতে পারছে তা মাত্র ৫ পারসেন্ট, আর বাকী পঁচানব্বই ভাগ-ই এখনো জানার বাইরে। [১]


পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী নিউটনের শেষ কথা ছিল, ❝আমি জ্ঞান সমুদ্রের বালুকণার বেলায় দাঁড়িয়ে শামুক-ঝিনুক নিয়ে খেলা করেছিলাম, অথৈ জ্ঞানসমুদ্র অজানাই রয়ে গেল।❞ জগৎখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিসও বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, ❝আমি একটি বিষয় জানি যে, আমি কিছুই জানি না।❞


আসলে মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সীমাবদ্ধ জ্ঞান দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ পাক যতটুকু ইচ্ছে করেন ততটুকুই মানুষ জানতে পারে এবং ততটুকুই তার পক্ষে জানা সম্ভব হয়।


আল্লাহ তা'আলা আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন, ❝তোমাদের (মানুষকে) অতি সামান্য জ্ঞান দেয়া হয়েছে।❞[২] আসলেই আমাদের জ্ঞানভাণ্ডার খুবই ক্ষুদ্র, আমরা আমাদের এই ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক দিয়ে যা-ই জানতে পারি না কেনো তা একটি বালুকণার দানার সমানও নয়।


আল্লাহ তা'আলা আরো বলেছেন,

❝নিশ্চয়ই এর মাঝে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে।❞[৩] ❝যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদায় আরো উন্নতি দান করবেন।❞[৪] ❝যারা জানে (জ্ঞানী) এবং যারা জানে না (মূর্খ) তারা কি সমান? বোধশক্তিসম্পন্ন জ্ঞানী লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণকরে।❞[৫]

❝তিনি যাকে ইচ্ছা বিশেষ জ্ঞান দান করেন এবং যাকে বিশেষ জ্ঞান দান করা হয়, সে প্রভূত কল্যাণকর বস্তুপ্রাপ্ত হয়। উপদেশ তারাই গ্রহণ করে, যারা জ্ঞানবান।❞[৬] 


❝প্রত্যেক জ্ঞানীর উপর আছেন এক মহাজ্ঞানী (আল্লাহ)।❞[৭]


এই আয়াতগুলো পড়ে আমরা সহজে উপলব্ধি করতে পারি, আল্লাহ আমাদেরকে জ্ঞান আহরণের দিকে উৎসাহিত করেছেন। যাতে সেই জ্ঞান দ্বারা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করতে পারি, এবং উনার উপদেশ গ্রহন করি।


❝হে আমার বর! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দাও।❞[৮]


হে আল্লাহ! আমাকে তুমি যা শিখিয়েছ তা দিয়ে আমাকে উপকৃত কর, আমার জন্য যা উপকারী হবে তা আমাকে শিখিয়ে দাও এবং আমার ইলম (জ্ঞান) বাড়িয়ে দাও। সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা এবং আমি জাহান্নামীদের অবস্থা থেকে হিফাযাতের জন্য আল্লাহর নিকটে আশ্রয় প্রার্থণা করি।[৯]


(আমিন)


— রুমাদ হোসেন


——————————————————


সূত্র:


[১]

https://science.nasa.gov/astrophysics/focus-areas/what-is-dark-energy


https://www.britannica.com/science/dark-matter


https://www.google.com/amp/s/www.anandabazar.com/amp/science/scientists-working-hard-to-decipher-the-secrets-of-big-bang-theory/cid/1272472


https://www.dailynayadiganta.com/ampproject/islami-diganta/391870/%E0%A6%B8%E0%A6%AC-%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%89%E0%A7%8E%E0%A6%B8-%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A7%8D


[২] (সূরা বনি ইসরাইল ৮৫)

[৩] (সূরা হিজর-৭৫)

[৪] (সূরা মুজাদালাহ-১১)

[৫] (সূরা জুমার-৯)

[৬] (সূরা বাকারা-২৬৯)

[৭] (সূরা ইউসুফ-৭৬)

[৮] (সূরা তাহা-১১৪)

[৯] (জামে আত-তিরমিজি ৩৫৯৯)

বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই, ২০২২

গরু কিনা শেষ, খুব ভাব নিয়ে হাটছেন এ বছর থেকে আপনিও কুরবানী দিবেন।

গরু কিনা শেষ, খুব ভাব নিয়ে হাটছেন এ বছর থেকে আপনিও কুরবানী দিবেন।


কিন্তু খেয়াল করলে শোনতে পেতেন, আপনার পাশের ঘর থেকে বচ্চাদের কান্নার আওয়াজ আসছে…. খাবার নেই


এ বছর আপনি গরু কিনতে গিয়ে এক্সট্রা অনেক খরচ করে ফেলেছেন। তাই আর দান সাদকাহ করতে পারবেন না বলে মনস্থির করে নিয়েছেন। যে ভাই খুব কষ্টে সংসার চালান, এবং ঈদ এলে বাজারহাট করার খরচ যোগাতে ব্যর্থ হোন, কিন্তু প্রতিবছর ঈদের আগে আপনি তাকে যে পাঁচশ টাকা দিতেন তা দিয়ে তার বাজার হয়ে যেত। তা এবার হচ্ছে না।



কুরবানির জন্য অনুৎসাহী করার জন্য কথাগুলো বলছি না। কিন্তু আপনি যদি একটু কেয়ার ফুল হোন যে, এবার গরু কেনার সময় অবশ্যই এক্সট্রা খরচ করবেন না। যে টাকাটা এক্সট্রা খরচ করার জন্য রেখেছেন সেটা দান করে দিবেন। তাহলে আপনার পাশের ঘর থেকে বাচ্চাদের কান্নার বদলে হাসি শোনতে পাবেন।


আপনি কোরবানির পশু কিনতে গেলে কিছু টাকা সাদকাহ করার জন্য সরিয়ে রাখতে পারেন। পশু কেনার সময় এই কয়টা টাকা হয়তো তেমন প্রভাব ফেলবে না তবে অনেক সংসারের প্রয়োজনটুকুন মিটে যাবে, ইন শা আল্লাহ।


আল্লাহ সবাইকে সহিহ নিয়তে কোরবানি করার তাউফিক দান করুন।

বুধবার, ২৯ জুন, ২০২২

আল্লাহর ভালবাসা পেয়ে গেলে দুনিয়ার সৌন্দর্য এবং রূপ তার কাছে মূল্যহীন।

একটি বিচিত্র প্রেমের গল্প বলতে এসেছি, শুনতে চান তো? তাহলে শুরু করা যাক,


এক দেশে একজন খুবই রূপবতী রাজকন্যা বাস করতো। সেই রাজকন্যার একমাত্র শখ ছিল নিজের টাকা খরচ করে একটি সুন্দর মসজিদ বানাবে। তার গয়নাগাটি যা ছিল সব বিক্রি করে দিল। মায়ের দেওয়া কিছু গয়না সহ আরো যা অলংকার ছিল সেগুলোও বিক্রি করে দিল। এতে যা টাকা হলো তা দিয়েই মসজিদের কাজ শুরু হলো। দেশ বিদেশ থেকে অনেক নামকরা মিস্ত্রি দিয়ে মসজিদ নির্মাণের কাজ চলতে লাগলো।


মসজিদের কাজের অগ্রগতি দেখতে রাজকন্যা একদিন মসজিদ ঘুরতে বেরুলেন। সবাইকে সরিয়ে দেওয়া হলো। কোনো পুরুষ নেই তাই রাজকন্যা নিজের নেকাব খুলে বান্ধবীদের নিয়ে ঘুরেফিরে মসজিদের সৌন্দর্য দেখতে লাগলেন। মসজিদের মিনারে তখন এক যোগালি ছেলে কাজ করছিল তাকে কেউ নামতে বলেনি। সে যখন নিচে নেমে দেখতে পেল অনেকগুলো পরী মসজিদে ঘুরছে। সে রাজকন্যার রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল। এক দেখাতেই সে রাজকন্যার প্রেমে পড়ে গেল। লুকিয়ে লুকিয়ে তাদের চলে যাওয়া পর্যন্ত তাকে দেখতে থাকলো।


সেই যোগালি ছেলেটি উন্মাদের মতো নিজের বাসায় ফিরে গেল। তার মা তার এইরকম পাগল প্রায় অবস্থা দেখে উদগ্রিব হয়ে জানতে চাইলেন,  কি হয়েছে বাবা? সে  তার মাকে রাজকন্যার কথা খুলে বলল। বলল, সে রাজকন্যাকে বিয়ে করতে চায়। মা বললেন, কোথায় রাজকন্যা আর কোথায় তুমি? যোগালি তো নাছোড়বান্দা সে রাজকন্যাকেই বিয়ে করবে। তা না হলে মরে যাবে। মা পড়ে গেলেন মহাবিপদে।


ছেলেটির মা রাজদরবারে রাজকন্যার সঙ্গে দেখা করতে চলে গেলেন। রাজকন্যা ছিলেন অত্যন্ত মিশুক প্রকৃতির। রাজপ্রাসাদে যারাই আসেন সবার সাথে দেখা করেন। ছেলেটির মা রাজকন্যাকে পুরো ঘটনা খুলে বললেন। উত্তরে রাজকন্যা বললেন, আমি বিয়েতে রাজী। কিন্তু শর্ত হলো, আপনার ছেলেকে একটানা চল্লিশদিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামায তো পরবেই সাথে তাহাজ্জুদ নামাজও পড়তে হবে। একদিনও বাদ দেওয়া যাবে না।


শর্ত শোনে ছেলেটি তো খুব খুশী। এ আর তেমন কি! ছেলেটি প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায আর রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তে শুরু করলো। খুব আগ্রহ নিয়ে পড়তো। কারণ নামাযে দাঁড়ালেই রাজকন্যার মায়াবী মুখ ভেসে উঠতো। সে আরো আগ্রহ নিয়ে পড়তে আরম্ভ করলো। এভাবে চল্লিশদিন পূর্ণ হতে চললো। ছেলেটির মা তো বেজায় খুশী রাজকন্যার সাথে ছেলের বিয়ে হবে।


কিন্তু যেদিন চল্লিশদিন শেষ হলো,

ছেলেটি তার মাকে ডেকে বলল, তুমি রাজপ্রাসাদে গিয়ে রাজকন্যাকে বলে দিও আমি আর তাকে বিয়ে করতে চাই না। আমি তার রূপ দেখে সাময়িক সময়ের জন্য তার প্রেমে মজে গিয়েছিলাম। এখন আমি স্থায়ী প্রেমের সন্ধান পেয়ে গেছি। আর সে প্রেম হচ্ছে আল্লাহর প্রেম।




মা অবাক হয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন, তার ছেলে যে নিজের হাতে নিজের পায়ে কুড়াল মারছে।


ছেলেটির মা রাজকন্যাকে গিয়ে সব বললেন। রাজকন্যা একটি হাসি দিয়ে বললেন, আমি জানতাম এমনিই ঘটবে। আল্লাহর ভালবাসা পেয়ে গেলে দুনিয়ার সৌন্দর্য এবং রূপ তার কাছে মূল্যহীন।


__________________________________


গল্পটি পড়েছিলাম "আতিক উল্লাহ (হাফি.)" এর একটি বইতে। গল্পের নাম "বিচিত্র প্রেম"। মূলভাবটা ধরে রেখে নিজের মতো করে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি।


https://www.facebook.com/rumadhussen

মঙ্গলবার, ২৮ জুন, ২০২২

তোমাদের দুআর চেয়ে আল্লাহর দয়া অনেক বেশি

 ❝তোমাদের দুআর চেয়ে আল্লাহর দয়া অনেক বেশি!❞ — নবিজি (ﷺ)


মসজিদে ঢুকলেই দেখতে পেতাম লুঙ্গি-পাঞ্জাবী পড়া এক ভদ্রেকলোক একা একা বসে হাত তুলে দুআ করছেন। সুন্নাত শেষ করা মাত্র দেখলাম আবার একা দুআয় মগ্ন হয়ে আছেন। ফরজ জামআত শেষ করে আরেকবার সবার সাথে দুআয় সামিল হয়ে গেলেন। ফরজের পরের দুই রাকাআত সুন্নাত আদায় করে ফের দুআয় মগ্ন হলেন। তাকে এতো এতো বার দুআ করতে দেখে চিন্তায় পড়ে গেলাম। এই লোকের মনেহয় মাথায় কোনো সমস্যা আছে?


দুআয় যা চাওয়ার তা তো একবারে চেয়ে নিলেই হয়। বারবার কি দরকার? 


পরক্ষণেই মনে পড়লো, আমি যা ভাবছি তা অন্যায়। আগে তো যাচাই করে দেখা দরকার… 


খুঁজে পেলাম একটি হাদিস যেখানে,

আবূ সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, 'নবি (ﷺ) বলেছেন,


❝যদি কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে এমন দুআ করে, যার মাধ্যমে কোনো গুনাহের ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নের বিষয় নেই, তা হলে আল্লাহ তাকে তিনটি বিষয়ের মধ্যে যেকোনো একটি বিষয় অবশ্যই দেবেন—


১. হয়তো তাড়াতাড়িই তার দুয়া কবুল করা হবে, অথবা 

২. আখিরাতে তার জন্য এটিকে জমা করে রাখা হবে, অথবা 

৩. তার কাছ থেকে এর সমপরিমাণ কোনো বিপদাপদ দূর করে দেওয়া হবে।❞


সাহাবায়ে কেরাম বলেন, ❝ তা হলে তো আমরা বেশি বেশি দুআ করব!❞

নবি (ﷺ) বলেন, ❝তোমাদের দুআর চেয়ে আল্লাহর দয়া অনেক বেশি!❞ [১]



আমি বুঝতে পারলাম লোকটা পাগল নয়, বরং আমরাই পাগল। আলসেমি করে একবার হাত তোলে দুআ করে ভাবি, সব বুঝি চাওয়া হয়েগেছে, আল্লাহ দুআ কবুল করলেই হয়। 


কিন্তু একবার শেষ করে আবার দুআ করার ইচ্ছে করিনা, এটা আমাদের দূর্ভাগ্য।


শয়তান আমদেরকে খুব সহজ একটি আমল থেকে সবসময় বিরত রাখে।


জীবনে সফল হতে হলে দুআর সংখ্যা বাড়িয়ে দিন। ভিক্ষুক যেভাবে ভিক্ষার জন্য বারবার হাত পাতে সেভাবে বারবার আল্লাহর কাছে আমাদের হাত পাততে হবে।


হে আল্লাহ আমাদের তাওফিক দেন..


———————————————


[১] আহমাদ, আল-মুসনাদ, ১১১৩৩

নতুন নতুন এন্ড্রয়েড ফোন এসেছে

  নতুন নতুন এন্ড্রয়েড ফোন এসেছে এলাকায়। নতুন এই ফোনের ফাংশনের সাথে সবাই অপরিচিত। আসার পর অনেকের ফোনের ফাংশন, সেটিং বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে...