শনিবার, ১৮ মে, ২০২৪

নতুন নতুন এন্ড্রয়েড ফোন এসেছে

 নতুন নতুন এন্ড্রয়েড ফোন এসেছে এলাকায়। নতুন এই ফোনের ফাংশনের সাথে সবাই অপরিচিত। আসার পর অনেকের ফোনের ফাংশন, সেটিং বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে দিত ফজলু।


একটা সময় এমন দাঁড়ালো, কোথাও গিয়ে আরাম করে বসতে পারতো না, কেউ না কেউ ফোন নিয়ে তার খুঁজে চলে আসতো। প্রথম প্রথম ব্যাপারটা উপভোগ করতো, কিন্তু ধীরে ধীরে উপভোগ থেকে বিরক্তি ধরে গেল। এ যেন খ্যাতির বিরম্ভনা। এ অবস্থা থেকে মুক্তি চাইতে লাগলো সে।


ফজলু একটা লম্বা সময় ধরে এলাকার বাইরে চলে গেল। ফিরে এসে দেখলো মুটামুটি সবাই এখন এন্ড্রয়েড ফোন চালায় এবং সবকিছুই ভালো করে বুঝে। তারপরও কেউ এসে যদি বলে, ভাই একটা ইমেইল আইডি করে দেন, ভাই অমুক এপ্স ইন্সটল হচ্ছে না, ভাই অই সেটিং করতে পারছিনা। তখন সে ছলনার করে, বিরম্বনা থেকে বাঁচতে  মিথ্যার আশ্রয় নেয়। যেমন, ভাই নতুন ফোনের এই ফাংশন গুলো এখন আমি আর বুঝতে পারিনা। কিংবা অনেকদিন ধরে ফোন চালাইনা তাই সবকিছু ভুলে গেছি। এধরনের মিথ্যা বলায় তাঁর কোনো আক্ষেপ থাকে না। 


এই ঘটনা বলার পেছনে একটা উদ্দেশ্য আছে, 

'ফজলু' নামের লোকের মতো বিরম্বনা আমাদেরও সবার জীবনে কম বেশী ঘটেছে। সে অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে আমরাও কিন্তু ছোটখাটো বিষয়ে প্রচুর মিথ্যা কথা বলে ফেলি। আমাদের কাছে মনে হতে পারে এই মিথ্যা বললে তেমন কিছুই হবে না৷ এই ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বেশী মাথাও ঘামাই না। আর একারণে অপরাধবোধও জাগে না।


একটা পাপ করে তার জন্য অনুতপ্ত না হওয়া মানে পাপটাকে প্রশ্রয় দেয়া। প্রশ্রয় পেয়ে তা বেড়ে যাবে বহুলাংশে। আর মিথ্যা কথা বলা 'মহাপাপ' সেটা সবাই জানি। মিথ্যা না বলে আমাদের অন্যভাবে সমাধান খুঁজতে হবে। কেউ যদি ফোন নিয়ে আপনার কাছে আসতে চায় আপনি তাকে এড়িয়ে যেতে পারেন। তার কথা না শুনে চুপ করে উঠে চলে আসতে পারেন সে যায়গা থেকে। আর কিছু না হোক একটা পাপ করা থেকে বেঁচে তো যাবেন।


— রুমাদ হোসেন 

@hussenrumad.bd



সারাবছর পড়ালেখা না করা ছেলেটা

 



সারাবছর পড়ালেখা না করা ছেলেটা পরীক্ষার আগের দিন যখন বই খুলে দেখে কিচ্ছু করার নেই। কোনো প্রিপারেশন নেই। তখন মনে মনে ভাবে, ইশ! পরীক্ষাটা যদি আরো কয়টা দিন পরে হত, তাহলে ভালভাবে প্রিপারেশন নিতাম। কিন্তু তার একার জন্য তো পরীক্ষার ডেট চেঞ্জ হবে না।


"মালাকুল মাউত" চলে আসার পর একদল লোক বলবে, 'আমারে আরো কয়টা দিন সময় দিলে ভালো হয়ে যেতাম।' আসলে প্রিপারেশন নেই বলে কিন্তু পার পাবেন না। দুনিয়ার সামান্য পরীক্ষা যেখানে আপনার প্রিপারেশন নেই বলে চেঞ্জ হবে না। সেখানে মৃত্যু তো জন্মের পূর্বেই নির্ধারণ করা হয়ে গেছে।


– রুমাদ হোসেন

আমরা কতটা বাক স্বাধীনতা ভোগ করতে পার‌ছি …?

 


আমরা কতটা বাক স্বাধীনতা ভোগ করতে পার‌ছি …?

.

কাল জুম'আর খুতবায় "কুরআনের পাখিকে" নিয়ে আলোচনা করায় দেখলাম অনেক আলেমকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সরকারি দলের রোষানলে পড়তে হয়েছে আরো অনেককে। বাকস্বাধীনতা এখানে বিলুপ্ত। 

.

একজন জননন্দিত আলিমের মৃত্যুতে "ইন্না-লিল্লাহ" পড়া তার মাগফিরাতের জন্য দুয়া করা মুসলিম হিসেবে আমাদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তার জন্য প্রায় ১৭ জনকে একটা দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বাকস্বাধীনতা এখানেও সোনার হরিণ।

.

বিখ্যাত অনেক ব্যক্তি হঠাৎ মারা গেলে তার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহে করা যথেষ্ট স্বভাবিক। সন্দেহ করে পোস্ট করায়, সন্দেহের কারণ উল্লেখ করার কারণে যদি নিগ্রহের স্বীকার হতে হয়, তাহলে সেখানেও বাকস্বাধীনতা কোথায়?

.

দলীয় প্রধান ব্যাক্তিকে নিয়ে কিছু বললে তাকে সাথে সাথে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়, রিমান্ড দেয়। 

কিন্ত, আমাদের প্রাণপ্রিয় রাসুলুল্লাহ ﷺ -কে গালি দেওয়া ব্যক্তিকে প্রশাসনের লোক শাস্তি দিবে কি, কিছুই বলে না। এখানে এক পারসেন্টরও কম সেকু*লারদের বাক স্বাধীনতা দেখানো হয়। কিন্তু নব্বই পারসেন্ট মানুষের বাকস্বাধীনতার দাম নেই।

.

কে ক্ষমতায় যাবে ? কিভাবে যাবে এগুলো আলোচনা করতে আমরা আগ্রহী নই। আমরা আমাদের বাকস্বাধীনতা ফেরত চাই। ইসলামি হুকুমাত কায়েম হোক সে আশা করে যাই। 

.

ধন্যবাদ

.

— রুমাদ হোসেন

এক বুজুর্গ তার একটি গল্প শোনালেন

  


এক বুজুর্গ তার একটি গল্প শোনালেন:

.

একদা একদিন আমি মসজিদে শুয়ে আছি, এমন সময় একটি জানাযার নামায শুরু হলো। আমি জানাযায় শরিক হলাম। তারপর কবরস্থানে কবর দিতে গেলাম। যে মারা গেছে আমি তাকে চিনতাম না, কোনোদিন দেখিওনি।

.

কবর দেওয়া শেষ হলে বাকি সবাই কবরস্থান থেকে চলে গেলো শুধু আমি একা কবরের পাশে বসে রইলাম। এবং আল্লাহর কাছে বললাম: 

.

❝ হে আল্লাহ্, যে মেহমানকে এখন রেখে যাওয়া হচ্ছে তাকে আমি চিনিনা, সে যদি আমার কাছে আসতো আমি তার যথাযথ মেহমানদারী করতাম। আর এখন সে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু—এর মেহমান।❞

.

তারপর আমি আবার মসজিদে ফিরে এসে শুয়ে পড়লাম। এবং গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম….

.

স্বপ্নে দেখলাম, সাদা পোশাক পরিহিত এক লোক আমাকে ডেকে জিজ্ঞেস করছে, আপনি কি সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেছে?

.

আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কে?

.

সে বলল: আমি-ই সেই লোক যাকে কবর দিয়ে এলেন এবং আপনার প্রর্থনা কবুল করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা আমাকে ক্ষমা করে উনার মেহমান বানিয়ে নিয়েছেন।

___
রুমাদ হোসেন
rumadhussen@gmail.com

আমি জন্মদিন পালনের বিপক্ষে

 


আমি জন্মদিন পালনের বিপক্ষে সে–ই প্রথম থেকে

.

শুধু যে নিজের জন্যে বিপক্ষে তা নয়। প্রত্যেক মানুষের জন্মদিন পালনের বিপক্ষে আমি

.

জন্মদিন পালন বেপারটা—ই কেমন যেন "অহেতুক" কাজ

.

ভাই, আমাদের জন্ম-ই হয়েছে মৃত্যুর প্রয়োজনে। আমরা সবাই একটা সময় বেঁধে নিয়ে এসেছি, সেটা হতে পারে ১০০ বছর, ৫০ বছর কিংবা ২৫ বছর। তার কাউন্টডাউনও শুরু হয়েগেছে...

.

আমার বয়স যত বাড়ছে আমি মৃত্যুদিকে তত এগিয়ে যাচ্ছি। তা নিয়ে শোকাহত হওয়ার কথা। আমার বেঁধে দেওয়া সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে...

.

ফুর্তি, পার্টি, কেক কাটা, হৈ-হুল্লোড় করে আপনি কি বুঝাতে চাচ্ছেন?

.

মৃত্যু আপনার কাছে ভয়ের নয়

.

নাকি খোদ মৃত্যুকে অস্বীকার করবেন। অস্বীকার করতে তো পারবেন না। কারণ, আপনি অস্বীকার করলে—ই তো আর তা আটকে থাকবে না। আপনাকে বেঁধে দেওয়া সময় ফুরালে–ই তার চাক্ষুষ প্রমাণ পেয়ে যাবেন।

.

নবিজী ﷺ -এর জন্মদিন নিয়ে খুব হৈ-হুল্লোড় হয়।

.

কিন্তু নবী নিজে

কিংবা তার কোনো সাহাবী অথবা কোনো তাবেঈ

অথবা কোনো তাবে তবেঈ 

তাঁরা কেউ নবিজী ﷺ -এর জন্মদিন আয়োজন করে পালন করেছেন বলে কোনো বিশ্বস্ত তথ্য কোনো আলিম পাননি।

.

কিছু সূত্র থেকে জানা যায়, সাহাবীরা (রাদ্বি.) নবিজী ﷺ -এর জন্মদিন উপলক্ষে একসাথে বসে তাঁর সিরাত আলোচনা করতেন। উনার জীবনী অধ্যয়ন করতেন। 

.

তাদের অনুসারী হিসেবে আমাদেরও তো তাই করা উচিৎ

.

হৈ-হুল্লোড় পরিত্যাগ করে নবিজীর সিরাতের আলোচনা বাড়িয়ে দেই। উঁনার জীবনী নিয়ে গবেষণায় সময় দেই।

কীভাবে আমি হতাশ হতে পারি ?

 


 ১.

খুব অসুবিধার মধ্য দিয়ে কাটছে আমার দিন। জব নেই, কাজ নেই। বেকার যুবকদের যেসকল অবহেলার স্বীকার হতে হয় তার সবকিছুর স্বীকার অলরেডি হয়ে গেছি। খুব হতাশার জীবন পার করছি এখন।

.

পরিবার আছে। মা-বাবা, ভাই-বোনেরা সবাই আমার প্রতিষ্ঠিত হবার অপেক্ষায়। আর আমি তাদের হতাশ করে-ই চলছি বারবার। জব খুঁজছি। কোথাও ইন্টারভিউ দিতে গেলে ফেল করছি। একি গল্প বার-বার রিপিট হচ্ছে। হতাশাও বেড়ে চলছে…

.

২.

দোকানে নতুন এক কর্মচারী এসেছে। বয়স একুশ-বাইশ হবে। আমাদের ম্যানেজার চাচার পূর্ব-পরিচিত।

.

তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, 'বাড়ী কোথায়?'

খুব ক্ষোভ ও অভিমানের সুরে উত্তর দিলো, 'আমার কোনো বাড়ি-ঘর নেই।'

.

তার উত্তর শুনে আমার খটকা লাগায় ম্যানেজার চাচাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'ঘটনা কি?'

.

চাচা যা বললেন তা অনেকটা এরকম,

সে এতিম। যখন অনেক ছোট ছিলো তখন বাবা-মা দু'জনই মারা গেছে। বড় হয়েছে চাচার কাছে। সেখানে অনেক নির্যাতিত হতে হয়েছে, শেষ-মেষ রাগে দুঃখে সেখান থেকে পালিয়ে এসেছে। এখন তাকে কেউ পরিচয় জিজ্ঞেস করলে বলে, 'তার কেউ নেই।'

.

পরিবার হারা একটা ছেলেকে চোখের সামনে যখন হাসিখুশি দেখি, তখন নিজেকে তার জায়গায় বসিয়ে চিন্তা করতে থাকি,

.

"কীভাবে আমি হতাশ হতে পারি?"

নতুন নতুন এন্ড্রয়েড ফোন এসেছে

  নতুন নতুন এন্ড্রয়েড ফোন এসেছে এলাকায়। নতুন এই ফোনের ফাংশনের সাথে সবাই অপরিচিত। আসার পর অনেকের ফোনের ফাংশন, সেটিং বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে...